মানহানি – সম্মান রক্ষায় আইনের আশ্রয় সম্মান ও আত্মমর্যাদা মানুষের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। পরিবার, সমাজ ও ব্যক্তিগত পরিসরে একজন ব্যক্তি তার সুনাম ও মর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে চান। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপবাদ দেয়, কুৎসা রটে কিংবা এমন কিছু মন্তব্য করে যা সেই ব্যক্তির সম্মানহানি ঘটায়—তখন সেটিকে আইনত “মানহানি” বলা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কী কী পরিস্থিতিকে মানহানি বলা হবে? আর কীভাবে আইনি প্রতিকার পাওয়া যাবে?

মানহানির আইনি সংজ্ঞা

বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় বলা হয়েছে: “যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো বিবৃতি, চিহ্ন বা দৃশ্য প্রকাশ করেন যা অন্য কোনো ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করতে পারে, এবং তিনি জানেন বা বিশ্বাস করার কারণ আছে যে এতে সেই ব্যক্তির সম্মানহানি ঘটবে—তাহলে এটি মানহানি হিসেবে গণ্য হবে।” এই ধারাটি শুধু মৌখিক অপবাদ নয়, লিখিত, দৃশ্যমান বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমেও প্রযোজ্য।

মানহানির শাস্তি কী?

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৫০০ ধারা অনুযায়ী: • সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, বা • অর্থদণ্ড, বা • উভয় দণ্ড

সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ (ধারা ২৯) অনুযায়ী: • যদি কোনো ব্যক্তি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে মানহানিকর তথ্য প্রচার করেন, তাহলে: • সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা জরিমানা • কারাদণ্ডের বিধান নেই

কোন কাজগুলো মানহানি নয়? আইন শুধু মানহানির সংজ্ঞাই দেয়নি, বরং ১০টি ব্যতিক্রম উল্লেখ করেছে যা মানহানি হিসেবে গণ্য হবে না: • জনস্বার্থে সত্য অভিযোগ করা • সরকারি কর্মচারীর কার্যক্রম নিয়ে সৎ মত প্রকাশ • সরকারি বিষয়ে কারও আচরণ নিয়ে আলোচনা • আদালতের রিপোর্ট বা কার্যবিবরণী প্রকাশ • জনস্বার্থে সৎভাবে মত প্রকাশ • আদালতে সিদ্ধান্তের আলোকে সাক্ষীর আচরণ নিয়ে মত দেওয়া • গণ-অনুষ্ঠান বিষয়ে মতামত প্রকাশ • সৎ বিশ্বাসে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানো (যেমন পুলিশের কাছে) • নিজস্ব বা অন্যের স্বার্থে দোষারোপ করা • জনকল্যাণের স্বার্থে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কিছু বলা

এসব ব্যতিক্রম দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

মানহানির মামলা কোথায় ও কীভাবে করবেন? আপনি যদি মনে করেন আপনার মানহানি হয়েছে, তাহলে আপনি আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন:

সাইবার মাধ্যমে অপবাদ/মানহানি হলে:

সাইবার ট্রাইব্যুনাল–এ মামলা করতে হবে।

সাধারণ অপবাদ/মানহানি হলে:

ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–এ মামলা দায়ের করতে হবে।

তবে মনে রাখতে হবে, দণ্ডবিধির ৫০০ ও সাইবার আইনের ২৯ ধারা “আমল অযোগ্য”। অর্থাৎ পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না।

জরিমানার পরিমাণ ও আদায়ের প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ জরিমানা: ২৫ লাখ টাকা (সাইবার আইন) তবে আদালত চাইলে ১ হাজার টাকাও জরিমানা করতে পারেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুসারে, আদালত নিম্নলিখিত দুইভাবে জরিমানা আদায় করতে পারেন: • অপরাধীর অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রি • জেল কালেক্টরের মাধ্যমে দেওয়ানি পদ্ধতিতে আদায়

যদি আসামি অনাদায়ে কারাদণ্ড ভোগ করেন, তাহলে সাধারণভাবে জরিমানা আদায়ের পরোয়ানা আর জারি করা যাবে না, তবে আদালত প্রয়োজন মনে করলে তা করতে পারেন।

বাকস্বাধীনতা মানেই অপবাদ নয়!

সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ বাংলাদেশিদের বাকস্বাধীনতা দিয়েছে।

কিন্তু এই স্বাধীনতা মানে অন্যের সুনামহানি করার অধিকার নয়। যে কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছোট করা, অপমান করা বা সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা করলে—তাঁর আইনি প্রতিকার পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

আপনার পাশে “Helix Legal Counsel” আমাদের অভিজ্ঞ আইনজীবীরা আছেন আপনাকে সহায়তা করতে, যদি আপনি:

মানহানির শিকার হন

আইনি পদক্ষেপ নিতে চান

বুঝতে না পারেন আপনার ক্ষেত্রে মামলা হবে কি না

ঠিকানা: ৩৫৪/ক, বিষ্ণুপুর পানি ট্যাংকি, কাপ্তান বাজার, আদর্শ সদর, কুমিল্লা

01886087206 | 01893391925 | 01878525394

helix.legal.counsel@gmail.com

ফেসবুক পেজ | গ্রুপ | লিঙ্কডইন | টুইটার

ইনবক্স করুন – Helix Legal Counsel

Helix Legal Counsel – আপনার আইনগত সঙ্গী, আপনার ন্যায়ের পথপ্রদর্শক।




