আইনগত মতামত বিষয়ঃ হিন্দু নারীর অযৌতুক স্ত্রীধনের উত্তরাধিকার বিষয়ক। শ্রীমতী মীনাক্ষী রায় একটি সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে ২০০৯ সালে ৪০ শতক জমি ক্রয় করে উক্ত সম্পত্তির মালিকানা লাভ করেন। তিনি নিজ নামে নামজারী ও জমাখারিজ সম্পন্ন করেন এবং মালিক দখলকার হিসেবে ভোগদখলে থাকেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর স্বামী জীবিত ছিলেন এবং তিনি পেছনে চার কন্যা রেখে যান, যাদের মধ্যে তিনজনের পুত্রসন্তান রয়েছে এবং একজনের কোনো পুত্রসন্তান নেই। আইনি বিশ্লেষণঃ স্ত্রীধনের সংজ্ঞা ও প্রকৃতি দায়াভাগ অনুসারে, যেই সম্পত্তি হিন্দু নারী তাঁর স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে নিজ আয়ে বা স্বাধীন সঞ্চয়ে অর্জন করেন এবং যার উপর তাঁর পূর্ণ স্বত্ব রয়েছে, তাহাই স্ত্রীধন। এর মধ্যে বিশেষভাবে “অযৌতুক স্ত্রীধন” হলো সেই সম্পত্তি যা স্ত্রী শুল্ক, যৌতুক বা অন্বধেয়ক ব্যতিরেকে অর্জন করেন। এক্ষেত্রে শ্রীমতী মীনাক্ষী রায় নিজ আয়ে (বা সঞ্চিত অর্থে) একটি বৈধ সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন করেন, যার উপর তিনি পূর্ণ মালিকানা লাভ করেন। অতএব, উক্ত সম্পত্তি ‘অযৌতুক স্ত্রীধন’ হিসেবে গণ্য হবে। উত্তরাধিকার প্রশ্নে দায়াভাগের বিধান দায়াভাগ অনুযায়ী অযৌতুক স্ত্রীধনের উত্তরাধিকারদের ক্রম নিম্নরূপঃ ১। পুত্র এবং কুমারী কন্যা ২। পুত্রবতী কন্যা অথবা সন্তান সম্ভাবা কন্যা ৩। পুত্রের পুত্র ৪। কন্যার পুত্র ৫। বন্ধ্যা বিবাহিতা কন্যা বা সন্তানহীন বিধবা কন্যা ৬। সহোদর ভ্রাতা ৭। মাতা ৮। পিতা ৯। স্বামী এই ক্রম অনুসারে দেখা যায় যে, যদি পুত্র না থাকে তবে পুত্রবতী কন্যারা অগ্রাধিকার পায়। জনাবা মীনাক্ষীর তিন কন্যার পুত্রসন্তান থাকায়, তারাই অযৌতুক স্ত্রীধনের উত্তরাধিকার হবেন। অন্যদিকে, চতুর্থ কন্যার কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় বা সন্তান সম্ভাবা না থাকলে তিনি উত্তরাধিকার দাবি করতে পারবেন না। এছাড়া, স্বামী জীবিত থাকলেও অযৌতুক স্ত্রীধনের ক্ষেত্রে তিনি উত্তরাধিকার হবেন না, যেহেতু দায়াভাগ আইনে তিনি নবম ক্রমে রয়েছেন এবং তার পূর্ববর্তী উত্তরাধিকারগণ জীবিত আছেন। মতামতের সারাংশঃ শ্রীমতী মীনাক্ষী রায়ের ৪০ শতক জমি অযৌতুক স্ত্রীধন হিসেবে বিবেচিত হবে। মৃত্যুকালে তাঁর তিন কন্যা যাদের পুত্রসন্তান আছে, তারা সমভাবে উক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন। চতুর্থ কন্যা ও স্বামী উত্তরাধিকার হবেন না। Post & photo Courtesy :- Helix Legal Counsel-আইনি পরামর্শ কেন্দ্র আপনার যেকোনো আইনী পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন। #হিন্দু #আইন #বাংলাদেশ




