download (6)

এজমালি জমি থেকে একক মালিকানার পথে

“ভাগাভাগির গল্প: এজমালি জমি থেকে একক মালিকানার পথে” ভূমি আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে জমি নিয়ে পারিবারিক ওয়ারিশী বিরোধের ইতিহাস দীর্ঘ। পরিবারে বাবার মৃত্যুর পর বা পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি উত্তরাধিকারের সূত্রে যেভাবে বিভক্ত হয়, তাকে ঘিরেই গড়ে ওঠে “এজমালি জমি” ধারণা। কিন্তু এজমালি সম্পত্তির ব্যবহার, ভোগদখল এবং বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকের মাঝেই রয়েছে বিভ্রান্তি। চলুন সরল ভাষায় জানি—এজমালি জমি কী, কীভাবে এটি বণ্টন করা যায়। এজমালি জমি কাকে বলে? যখন একের অধিক ব্যক্তি মিলেমিশে কোনো সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করে, তখন তাকে এজমালি জমি বলা হয়। সহজ কথায়, এটি এমন যৌথ মালিকানার জমি যা আগে হয়তো একক কোনো ব্যক্তির নামে ছিল। সেই ব্যক্তি মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীরা (সন্তান-সন্ততিগণ) সেই জমির সম্মিলিত মালিক হয়ে যায়। যতদিন না জমি আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথকভাবে ভাগাভাগি হয় বা দলিল অনুযায়ী ব্যক্তিগত মালিকানায় আসে, ততদিন জমিটি “এজমালি জমি” হিসেবেই থেকে যায়। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং সবাই নিজের মত করে ব্যবহার করতে পারে—কিন্তু আইনি দৃষ্টিতে সেটা আলাদা করে কারো একক সম্পত্তি নয়। এজমালি সম্পত্তি বণ্টন প্রক্রিয়া কী? ১. সমঝোতার মাধ্যমে বণ্টন: পরিবার বা ভাইবোনদের মধ্যে মিলে মিশে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে জমির নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করে নেয়া সবচেয়ে সহজ এবং ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়। √ নিজেদের ইচ্ছেমতো সমঝোতায় আসলে খুব অল্প খরচে (প্রায় ২,৭৬০ টাকা বা তার কিছু বেশি) সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে বণ্টন দলিল রেজিস্ট্রেশন করানো যায়। √ এতে করে আলাদা আলাদা নামেই জমা-খারিজ করে নেওয়া যায়, ঝামেলা ছাড়াই। ২. আদালতের মাধ্যমে বাটোয়ারা মামলা: যদি পারিবারিক সমঝোতা সম্ভব না হয়, তখন বাধ্য হয়ে আদালতে বাটোয়ারা মামলা করতে হয়। √ মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশান সনদ এবং সম্পত্তির মূল কাগজপত্র প্রয়োজন হয়। √ আদালত কমিশন নিয়োগ করে মাঠে জমি ভাগ করে দেন এবং শেষমেশ রায় প্রদান করেন। √ তবে এই প্রক্রিয়া অনেক সময়সাপেক্ষ এবং খরচসাপেক্ষ। মামলার জটিলতা, আসা-যাওয়ার খরচ, উকিল ফি ইত্যাদি মিলে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ তৈরি হয়। কীভাবে সময় ও অর্থ বাঁচানো যায়? √আত্মীয়স্বজনদের সাথে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোই সবচেয়ে ভালো পথ। √এভাবে সময়, টাকা এবং সম্পর্ক—তিনটিই রক্ষা করা যায়। √না হলে বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকতে পারে, এবং খরচের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলে।

Shahria
Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *