download (7)

খাস জমির গল্প: রাষ্ট্রের নীরব রক্ষিত সম্পদ

“খাস জমির গল্প: রাষ্ট্রের নীরব রক্ষিত সম্পদ” খাস জমি—শুনতে সাধারণ মনে হলেও, এটি বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাষ্ট্রের মালিকানায় থাকা এই জমির পরিচর্যা, ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। চলুন জেনে নিই, খাস জমি আসলে কী, কিভাবে তা চিহ্নিত করা হয়, এবং এর আইনি ভিত্তি কীভাবে নির্ধারিত হয়। খাস জমি কী? খাস জমি হলো এমন ভূমি, যার মালিকানা সরাসরি সরকারের অধীনে থাকে এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) ভূমি-সংগ্রহকারী বা কালেক্টর হিসেবে এই জমির তত্ত্বাবধান করেন। এই জমিগুলো সরকারী নথিতে কালেক্টরের নামে রেকর্ডকৃত থাকে। যদি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে যায়, তবে তাদের অধীনস্থ জমিগুলোও খাস জমির অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন, রেলওয়ের জমি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মূল মালিক সরকার। বিশেষ দিক হলো, সাধারণ খাস জমির ওপর ভূমি উন্নয়ন কর দিতে হয় না। তবে যদি কোনো সংস্থার নির্দিষ্ট মালিকানায় ন্যস্ত থাকে, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান বাধ্যতামূলক হয়। খাস জমি চেনার উপায় খাস জমি চেনার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়ঃ ১. ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমি: প্রতিটি মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমি সাধারণত খাস জমি হিসেবে চিহ্নিত। পরিত্যক্ত কৃষি জমি: ১৯৫০ সালের “স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্ট” অনুযায়ী যেসব পরিত্যক্ত কৃষি জমি সরকার খাস করেছে, তা খাস জমি বলে বিবেচিত। নদী বা সাগর গঠিত ভূমি: নদী বা সাগর ভাঙনের ফলে নতুন করে জেগে ওঠা জমি ‘খাস জমি’ হিসেবে স্বীকৃত হয় (সেকশন ৮৭, স্টেট এক্ট ১৯৫০)। নিলামে কেনা জমি: বকেয়া খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের মামলায় সরকার কর্তৃক নিলামে ক্রয়কৃত ভূমিও খাস জমির মর্যাদা পায়। ১০০ বিঘার অতিরিক্ত জমি হস্তান্তর: √ প্রেসিডেন্টের আদেশ নং ৯৮/১৯৭২ অনুসারে, ১০০ বিঘার বেশি জমি সরকারের কাছে হস্তান্তরিত হলে, সেই জমিগুলো খাস জমি হয়। √ ভূমি সংস্কার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, ৬০ বিঘার বেশি জমি সরকারের কাছে হস্তান্তরিত হবে। ভূমি মালিকানার সীমা লঙ্ঘন: যদি কেউ কৃষি জমির নির্ধারিত সীমা (৬০ বা ১০০ বিঘা) অতিক্রম করে জমি ক্রয় করে, তবে অতিরিক্ত জমি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাস জমি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। অমালিকানাধীন জমি: সংবিধানের ১৪৩(১)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশের যেকোনো প্রকৃত মালিকবিহীন জমি ‘খাস জমি’ হিসেবে বিবেচিত হয়। উপসংহার খাস জমি শুধু সরকারি মালিকানার নিছক তালিকা নয়, বরং এটি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, ভূমি সংস্কার ও সামাজিক ন্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। এই জমির যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে ভূমিহীন মানুষের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার সম্ভব। তাই খাস জমির আইন, নীতিমালা ও ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *